রাজশাহী কলেজ বাংলা বিভাগ "মিলন-উৎসব ২০১৯" - এ স্বাগতম

প্রায় সার্ধশতাব্দী প্রাচীন এবং প্রাচ্য ঐতিহ্যের স্মারক রাজশাহী কলেজ। অবিভক্ত বাংলার উচ্চ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে এই কলেজের রয়েছে অসামান্য অবদান ও সুদীর্ঘ ইতিহাস। সময়ের পরিক্রমায় রাজশাহী কলেজ আজ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ১৮৭৩ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন বাউলিয়া স্কুলে এফ.এ ক্লাস শুরুর মাধ্যমে কলেজের যাত্রা। ক্রমবর্ধমান সাফল্য ও খ্যাতির কারণে ১৮৭৫ সালেই কলেজটিকে প্রথম শ্রেণির কলেজে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়। ১৮৭৮ সালে কলেজটি প্রথম শ্রেণির কলেজের অনুমোদন পেয়ে বি.এ শ্রেণির পাঠদান শুরু করে।

একটি প্রথম শ্রেণির প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজশাহী কলেজ শুরু থেকেই অতি দ্রুত প্রসিদ্ধি লাভ করতে থাকে। ১৮৭৮ সালেই কলেজে মাস্টার্স কোর্স খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়। ক্রমোন্নতির ধারাবাহিকতায় ১৮৮৩ সালে চালু হয় বি.এল কোর্স। আনুমানিক ১৮৮৪-১৮৮৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজে অনার্স কোর্স চালু হয়। কিন্তু বাংলা বিভাগ কবে, কখন চালু করা হয়েছিল তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, সংস্কৃত ভাষার অনুমোদন থাকলেও তখন বংলা বিষয়ে অনার্সের অনুমোদন ছিল না। ১৯১২-১৯১৩-এর রাজশাহী কলেজ রিপোর্টে Vernacular Composition হিসেবে আই.এ ও বি.এ শ্রেণিতে বাংলা পড়ানো হত। ১৯১৮ সালের আগে বাংলা বিষয়ের জন্য কোন শিক্ষকও সম্ভবত ছিল না। ১৯৩৫-১৯৩৬ শিক্ষাবর্ষের ইন্সপেকশন রিপোর্ট থেকে জানা যায় Vernacular Composition-এর পরিবর্তে বাংলাকে স্বতন্ত্র বিষয়ের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আই.এ ও বি.এ শ্রেণিতে বাংলা (Bengali) স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু তখনও বাংলায় অনার্স পাঠদানের অনুমতি লাভ করেনি। রাজশাহী কলেজের প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে বলা য়ায় ১৯৩৭-১৯৩৮ সালের পরে সম্ভবত রাজশাহী কলেজে বাংলা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। ১৯৪১ সালে শ্রী শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী এই কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৪৯ সালে প্রফেসর ড. কাজী আব্দুল মান্নান ও প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম কৃতিত্বের সাথে বাংলায় অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের ঐতিহ্য সঞ্চারিত করার প্রয়াসে "মিলন-উৎসব ২০১৯"- এর আয়োজন

মিলন-উৎসবের উদ্দেশ্য:

  • বাংলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগের সেতু বন্ধন সৃষ্টি করা।
  • বাংলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষকমন্ডলীর সাথে সম্পর্কের বন্ধন সুদৃঢ় করা।
  • বাংলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষকগণকে সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা।
  • প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ করা।
  • বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে চেতনায় ধারণ করার প্রত্যয় আমরা দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ